২০২৫ এ, বারো বছর পর বাড়ি ফেরা উপলক্ষে এ কবিতা গুলো লেখা। ভেবেছিলাম অনেকগুলো কবিতা লেখব কিন্তু ফেরার উত্তেজনায় আর লেখা হয়ে ওঠেনি। বাড়ি ঘুরে আবার ফিরেও এলাম প্রবাসে, আর কোনদিন যাব ঠিক নাই। যদি যাই, যদি যেতে পারি হয়তো আরো কিছু কবিতা লেখা হবে।
১.
ও চড়ুই
পাখি গান ধরো, ভোরে
আমার
ঘুম ভাঙা যেন সহজ হয়ে যায়।
সারারাত
আমি কোথায় ছিলাম
পৃথিবীর
পথে ঘুরে ঘুরে, ফিরে আসি
উঠানের
পাশে জেগে থাকা জানালার কাছে।
গান
ধরো আমার পড়শি টুনটুনি প্রিয়া
মুর্তার
বাগান জুড়ে নাচানাচি করো
দুপুরের
আধছায়া নরম রোদের ভেতর
তোমারে
দেখেতে চেয়ে আমি পিপাসায় মরি।
উঠানের
কোণে সেঁজে থাকো রাঙা জবা ফুল
দখিনা
বাতাসে দুলে দুলে কথা কও
হাওরের
দিকে উদাস তাকিয়ে রবো আমি
কথার
চলকে ভেসে যাবো
আর দূরে
শোনা যাবে কালা ডাহুকের হাসি।
১৮/০৪/২০২৫
২.
দুপুরের
রোদ তুমি উঠানেই থাম
একটু
মাখামাখি করি।
আমার
শরীল জুড়ে লেগে থাকো
তার
শরীলের ঘ্রাণের মতো।
কোথায়
যাব আর এই উঠান ছেড়ে
পড়ে
থাকি ধুলোয়
সন্ধ্যার
হাওয়া মেখে উড়ে উড়ে দূর
গ্রামের
পথ ধরে ঘুরি।
দুপুরের
রোদ তুমি আমাকেই ডাকো
একটু
উষ্ণতা দিয়ে
খড়ের
একটু গন্ধ মাখা ভোরে
আমার
কপালেই চুমু খাও।
২৩/০৪/২৫
৩.
বৃষ্টিতে
ভিঁজে যাবে উঠান
আর বৈশাখী
ঝড়ে থতমত আমি
ভিঁজতে
ভিঁজতে ফিরে আসবো বাড়ি।
দেখবো
দাড়িতে বসে আছে কুকুর
আর কয়েকটি
বিড়াল
আমার
দিকেই তাকিয়ে আছে অবাক।
ভেঁজা
কাপড় বৃষ্টির পাশেই শুকাতে দিবো
নিজের
শরীল মুছতে মুছতে ধরবো গান,
আম গাছে
বসে থাকা কাক
ভিঁজতে
ভিঁজতে শোনাবে দিনলিপি তার।
সন্ধ্যার
আগে আগে বৃষ্টি থেমে যাবে এমন
একটুখানি
রোদ মিলেয়ে যাবে পশ্চিম দিকে,
আমিও
একটু বিষন্ন হবো
বোনেদের
ভাইয়ের খুনসুটি দূরে
একা
কর্কট লোক
বৃষ্টিতে
ভিঁজতে ভিঁজতে ফিরে আসছি ঘরে।
১৯/০৫/২৫
৪.
উঠান
ফেরোলেই হাওর আমার
বর্ষার
ঢেউয়ে দুলে ওঠে বাড়ি,
উঠান
জড়িয়ে থাকে ভেঁজা ভেঁজা মাটি
তীব্র
গন্ধে আমি আরো মাতাল হয়ে যাবো।
আম্মা
গুণতে থাকবেন পালা হাসগুলি
ছোটবোন
ছড়াবে মুঠো ভরে ধুলি,
আব্বা
তার স্বভাব মতো
মুরোগ
আর হাঁসগুলোের প্রতি
ঢেলে
দিবেন উতাল রাগের ঝারি।
সন্ধ্যা
হয়ে যাবে, তবু ফিরবোনা বাড়ি,
নায়ের
উপর শুয়ে ম্লান আকাশ
দেখতে
দেখতে আমি
ডানা
মেলে উড়ে যাবো
দূর
দূর দিকে।
২৬/০৫/২৫


0 মন্তব্যসমূহ