যে শহরে তুমি নাই, কোকিল ডাকবে কেন | বেলায়ত মাছুম

বাংলা প্রেম, বিরহের কবিতা। বেলায়েত মাছুম



১.
যে শহরে তুমি নাই, কোকিল ডাকবে কেন?
এমন প্রশ্ন আমি কোকিলরে করতে পারি না।


২.
মনে হয় বনের ভিতর বসে তসবি গুনি
কার নামে? তোমার, না তার—

আকাশ ভরা তারা
আমি গুনতে গেলেই শূন্য থেকে শুরু হয়
শেষ হওয়ার কোন দিন তারিখ থাকেনা—

আমার স্মৃতির যদি মরণ আসে
হিজলের ডাল থেকে সেই পাখি —
তোমার তদবির নিয়ে পৃথিবীর জানালা ঘুরে
আরো এক দিন — কার্তিকের ঝড়ের মত

তোমার নাম ধরে ডাকতে রবে—


৩.
আর তোমার কোন নাম নাই
ডাকার মত কোন নাম আর স্মরনে নাই
এমন দিন বুঝি আমার হলো—
আর তোমারে ডাকতে গেলে বোবা হয়ে যাই।

পৃথিবীর কোথাও আমিও থাকি
শব্দের কলতান নিয়ে—
পৃথিবীর কোথাও তুমি হাটতে আছো
হাওয়া বুঝি সে গল্প বলে যায়।

তোমার আর কোন নাম নাই—


৪.
এ দেশের হাওয়ারে হয়তো তুমি চেনো
হয়তো হাওয়া তোমার দেশ ঘুরে আসে
এমন স্মৃতি কি'বা হাওয়াও জমিয়ে রাখে
কতকাল ভ্রমণ ভুলে দূরে থেকে যাবো—


৫.
আমি তো মাতাল হলাম না আর
পৃথিবীতে আর কোন নেশা নেই আজ—
দেয়ালে দেয়ালে শব্দের প্রতিধ্বনি গেল কই
তোমার হৃদয় থেকে যেন খসে পড়ে আছি।

এমন নিদান বুঝি আমার একা হয় শুধু—
দেয়াল এখনো ঘামতে থাকি শুনি,
পড়শির কানে তাল-পাকা দুপুর
মাতাল হলাম না এমন দিন যায় চলে।

বাতাসে উড়ে আমি যেতে পারি না দূর
পায়ে নেই বেড়ি, নেই শংকা ডুবার—
তবু যেন সেই মাতাল নাবিকের মতো
ঘোর কাটা ভোরে লোকেরে তোমার গল্প শোনাই।


৬.
গল্প শেষ হলেই, উঠে চলে যাব ঘর
এমন প্রতিজ্ঞা হয়তো করতে পারি;
হয়তো অসুখের নিরাময় জানা আছে তার—

ফুলেরা ফুটে আছে গ্রীষ্মের রোদে
বাতাসে উড়ছে কিছু পয়মন্ত রেণু,
সবুজ পাতাদের গায়ে উৎসব আজো—
তার না হওয়া অসুখ নিয়ে ঘুরছি আমি।

গল্পের হলে— বিরহের রাত ফুরায় সহজ
অসুখ হলো— নিরাময় নাই, কথক সময়

গল্প শেষ হলেই চলে যাব দূর
ফেরার তাড়া নিয়ে ফিরে আসব ভাবি;
এমন অসুখ যদি তোমারও হয়—
এমন অসুখ নিয়ে কোথায় যাব আমি।


৭.
হয়তো কোথাও হাটতে আছি অসুখ নিয়ে
বুধবার যায়—
শনিবার আসে—
জানালায় উঁকি দিতে চাই,
আমার চোখ যেন অন্ধ
আর বধির কান দু'টো শব্দে মাতাল—
এমন অসুখ নিয়ে তারে খুঁজতে থাকি
শহরের দেয়ালে—
পাখির ডানায়—
সে কোথায় হাটে হাওয়া মাতিয়ে
এদিকে আসেনা;
এমন কোন ঝড়—
এমন কোন বাগান—
যেখানে ফুল আছে ঝরবার আশায়।


৮.
কোথাও সেই ইশারা পড়ে আছে
ঝড়ের রাতের মতন;
অন্ধ বাদুর গান গেয়ে ফিরে এমন রাত—
দেয়ালে কথার কাকলী মিশে আছে—

কোথায় তোমার চোখেরা আজ?
কোথায় হেটে চেলে গেছে চঞ্চল দুটি পা—
নীরব নদী তীর বুঝি ডাকবে নাম ধরে

এমন সুর হয়ে যদি উড়ে আসো
যদি আমি বর্ষার তুমুল ঢেউয়ে মাতাল হয়ে
ডুবতে থাকি—
ইশারা ভুলে—
কোথায় পালাবো আজ এমন তীব্র জ্বরে।


৯.
মাছেরা ডুবে আছে জলে
গভীর জলের ভিতর হয়তো আমিও নামতে পারি—

জাল মেলে আছে জেলেরা
আষাঢ় মাস শেষ হয়ে এলে হয়তো ফিরে যাবে বাড়ি;

হয়তো তোমার বাগানে আছে পোষা গাছ
বিড়ালেরা রোজ বিকেলে বসে থাকে—
তুমি হাত বুলিয়ে, ডেকে নিতে পারো ঘরে
এমন শব্দ যদি আমার কানও শুনতে পাই—

আমি হাটতে আছি সেই নদী কিনারে
যে পথ তোমারে ডাকতে গেলে—
বোবা হাসি ছলকে ওঠে ভুলে।


১০.
যে শহরে তুমি নাই, কোকিল ডাকবে কেন
এমন শব্দবলী লেখা নেই শহরের দেয়ালে—
হয়তো আমি কোথাও হাটতে হাটতে যাব
হয়তো পথ ফুরিয়ে যাবে বাড়ি ফেরা হলে;
শব্দের কাকলী ঘিরে আছে আমার চারপাশ
তবু ফুল ঝরার শব্দ বুঝি আমিই শুনতে পাই।

যেন আমি হাওয়া, কেবল উড়ে যেতে চাই
সন্ধ্যায় ফেরা পাখিদের মত, ক্লান্ত ডানা নিয়ে—

শহরের কোকিল হয়তো নাম ধরে ডাকে
আমি কোথায় যাবো? এমন পথ চেয়ে আছে
ঘরের জানালা দিয়ে হাওয়া ঢুকে পড়ে
সেই সুরভিতে তোমার ঘ্রাণ নাই।



ওল্ডহাম
জুলাই, ২০২২



0 comments