তৃষ্ণা ও চাষের আঙ্গুল বিষয়ক কয়েকটি কবিতা

মে ০৮, ২০২০


এখন পৃথিবীর দুঃসময়, মানুষের থেকে মানুষকে দূরে থাকতে হচ্ছে আর এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকরি ঔষধ। পৃথিবীর মঙ্গল কামনা করি আর তার প্রাণীদের প্রতি শুভকামনা।

১. চাষের আঙুল

আমার আঙুল চুষে পরিচিত কেউ
আমার আঙুলে লেগে আছে অতি প্রাচিন দাগ
জামার ভাঁজ খুলে ডাকছে বিভোর কেউ
জানালায় সন্তুর মতো চোখ নিয়ে কে?

ভাঙা কর্পুরে মেতে আছে সে
হাওয়ায় কল কল ধ্বনি আর বিভাজিত ঘর
টুপটাপ জলের বাড়ছে অসুুখ;
সে তবে যেন কেউ নয় আর
আমার বাড়ছে দ্বিধা প্রতিপ্রহর।

তাপে সহিষ্ণু মাকড়ের জাল
চারপাশ ঘিরে-
চারপাশ ঘিরে-
সে আর আমি
আরো আধাঁর।

আমার আঙুল বেয়ে ঝরছে পাঁপড়
তার গতরে ফুটে আছে বনেলা ঘ্রাণ।

২৮/০১/২০১৮
একলস/সুইন্টন


২.মাছি মারা শেষ


আজ একটা মাছি মারা শেষ
আর পাখিটা উড়ছে আকাশে
বিকেলের রোদের মতো আমি বসে আছি
কতকাল আমার জানালায় আমি বসিনা
মাছি উড়ার শব্দ শুনতে পাই
পাখিদের?
এমন কতদিন যে গেল
দুপুর প্রায় শেষ
আর আমি সন্ধ্যার কথা বলি
কে দূর হতে মাছি নিয়ে আসে
এক থালা ভাত
আমার মুখের দিকে চেয়ে আছে
অন্ধ হতে থাকি—
ঘরভর্তি আমার মাছিগুলো উড়ে
তাদের পুষতে থাকি।

১৪/০১/২০২০
ওল্ডহাম


৩. নিজের একান্ত আয়নায়


আজ মদ পান শেষে আমার সাথে দেখা হলো
চিনতে পারিনি তারে
তবুও মনে হলো—  মনে হয় চিনি তারে
সেই পরিচিত মুখ
সেই পুরনো ছায়ায় পুরনো অবয়ব
তারে নাম ধরে ডাকি
কী নাম যেন ছিল—  মনে পড়েনা;
পায়ের কাছে সেই কাঁচের বোতল
সেই আমার ভেতরে সমান কোলাহল
হেটে যাই
মুখোমুখি বসে কথা বলবো ভাবি
তার মুখ নাই-চোখ নাই
তবু তার সাথেই দেখা হলো আজ
রোজ যেমন হয়— আয়নায়।

১৪/০১/২০২০
ওল্ডহাম


৪. পাথর কুড়ানোর পর


পাথর কুড়ানো হলোনা আর
তবু বাগানের পথ ধরে
এক অচেনা লোক
অন্ধ চোখ নিয়ে
আমার চোখের দিকে থাকায়।
তারে আমি বাগানের কেউ ভাবি
সন্ধ্যার আলো নিয়ে
তার চোখের পাতার কাছে ওৎ পেতে রই।
পাথর কুড়ানো হয়না আর
তবু দূরের নদী তীর হতে
আসে হাওয়া
ফুলের শরীর ছুয়ে
যার মুখোমুখি হয়
তারে আমি পাথর বলি।

০৫/০২/২০
ওল্ডহাম



৫.তৃষ্ণা


তৃষ্ণাই আমাকে জলের কাছে নিয়ে যায়
তৃষ্ণাই আমাকে জলের কাছে নিয়ে যায়
তৃষ্ণাই আমাকে জলের কাছে নিয়ে যায়

জলের উপরে আমি ভাসতে থাকি আর
জলের ভেতরে আমি ডুবতে থাকি আর

গভীরে আছে সেই এক মাছের সংসার
সংসারে যেন আমি সেই মাছের মতোন।


১৫/০২/২০
সুইন্টন



৬. চা বিক্রির দিন

আজ যেন আবার ফিরে এলো চা বিক্রির দিন
শহরের অগোছালো ফুটপাত ধরে
ছায়ার অবয়ব নিয়ে—
সেই আবার আমাকে ঘিরে
মেতে রয় পৃথিবীর শব্দ সকল।

আজ যেন কেউ আর ডাকছেনা আমায়
ভোরের পাখীর মতো
তবু পৃথিবীর শব্দের কাছে আমি নত হতে থাকি
পাখির উড়া-পালকের সম্মোহনে।

আমি কার কথা বলি
চায়ের গন্ধ নিয়ে হাওয়া যার মুখোমুখি হয়;
সেই সব বনের তরঙ্গ মেখে
কেউ-কেউ যেন দূরে চলে যায়
আর আবার যে ফিরে এলো ভুল জোছনার কালে
তারে আমি যেন চা পানে আহ্বান  করি।

২৩/০৩/২০
ওল্ডহাম



৭. একা এক গাছের প্রতি



দুপুরের কাছে একা এক গাছ থাকিয়ে আছে রোদের মুখে
এমন দৃশ্যের ভেতর হাটতে হাটতে আমি যেন কোথাও বসি
গাছের ছায়ার উপর একজোড়া পা
হেটে হেটে ক্লান্ত আঙ্গুল নিয়ে হেটে যায় ছায়ার দিকে

দুপুরের ভেতর থেকে আমার একজোড়া পা
নিয়ে যায় আমায় সেই একা গাছের কাছে
হয়তো আমি বসে থাকি আর দুপুরের চোখে ঘুম পায় শুধু
হেটে হেটে কোথাও যাওয়া হয়না আর
শব্দের শব নিয়ে যেন শুয়ে থাকি আমি নিজের ঘরে
একা গাছের পাতায় কার নাম লেখা
হাওয়ার শব্দে কেন পাতা এমন করে থাকায়
আমি যেন সেই দুপুরের যোনী
গতকাল কে তবে ডেকে গেছে তারে
আমি আর দুপুর একদিন ঠিক পালিয়ে যাবো
এই একা গাছকে আরো বেশি একা করে।


২৬/০৪/২০
সুইন্টন



                                                                                  

You Might Also Like

0 comments