আমাদের সম্পর্কে | বেলায়েত মাছুম - বেলায়েত মাছুম আমাদের সম্পর্কে | বেলায়েত মাছুম

আমাদের সম্পর্কে | বেলায়েত মাছুম


উড়াউড়ির গল্প

আমাদের উড়াউড়ি নিয়ে কোন গল্প নেই কিংবা কোন চিত্রকর্ম; প্রাসাদের দেয়াল যত দীর্ঘ হয় অন্ধকারে- তার চেয়ে প্রশস্ত বুকের মাপে কোন মানচিত্র আঁকা হলোনা পাথর খুদে। ঘড়ির বয়স বেড়ে গেলো শুধু; তুমুল হাওয়া একদিন ছুয়ে দিলো আমাদের বিষন্ন চুলগুলো। 

গাছের পাতা হতে ঝরে গেলো টুপটুপ জল, আমাদের চোখ, পায়ের পাতা ভিঁজলো আসন্ন শীতের ধুলোয়। আরো অনেক হেমন্তী সন্ধ্যার মতো, অপার অন্ধকারে ডুবে গেলো আলোক রশ্মি। আর দূর হিমলায় শান্ত কুহকের ছায়ায় চুপচাপ, চুপচাপ মেতে রইল নিজের ভেতর। তবু আমাদের জন্য কোন গান, নৃত্যে সম'গীত গাইলোনা ঝি ঝি পোকার দল।

গত হওয়া দিনের বাড়তি স্মৃতি সমুহ নিয়ে একদিন আমরা মুখোমুখি হলে- আবার হয়তো বলা যাবে কোন্ কোন্ দুপুর আমাদের ঘামিয়ে দিলো; যাযাবর পাখিদের ঠোঁট কেন ফিরে গেলো নিজেদের ডেরায়, ঘড়ির কাঁটার অগুনতি ঘুর্ণন শব্দে কেমন করে মাঝ রাত ঝিমুতে থাকে।

আমাদের উড়াউড়ির শব্দে তন্দ্রাসক্ত কুয়াশা ঝরে যায়- এমন গল্প আর চিত্রের আগাম কল্পনা নিয়ে ভ্রমণে যাই। জরাগ্রস্ত দুপুরে শোকগান গাইতে গাইতে যখন সন্ধ্যা নামে, যখন প্রজাপতি আর উড়তে চায়না নিজের ডানায়- মনে হয় সকল শব্দেরা উৎকন্ঠা নিয়ে ফিরে আসে ঘড়ির ভেতর। 


আমাদের বসে থাকা

আমরা পৃথিবীর কোথাও বসে থাকি উদ্বাস্তু হৃদয় নিয়ে, ঘিরে থাকা চাঁদের আলোয় মুগ্ধ হতে চেয়ে আকাশের পানে থাকাই, সন্ধ্যা তারার দেয়াল জুড়ে চোখ রাখি, অন্ধকারের ইশারায় ডুব দিতে নেমে যাই বুকের জমিন হতে; অবকাশ যাপনের কোন দৃশ্যে আমাদের আর পাওয়া যায়না- যদিও প্রতি সন্ধ্যায় সূর্যকে ডুবে যেতে হয় নিরুদ্দেশ ইচ্ছায়।

ভেসে যাওয়ার নৌকায় চড়ে কোন দূরে যাই? অবগত কোন্ ফুলের সুরভী ঘিরে রাখে চারদিক?

এমন সন্ধ্যায় লবণ চাষীদেরও ফিরতে হয়, কোথাও ফেরার ঘর নেই জেনেও সূর্যাস্তগামী আলো রেখা ধরে- বহুদূরে আমাদের চলার শব্দ থামে; আমরা জল আর গোধূলি পানে মেতে রই। অন্ধকারে যে সকল দৃশ্য চোখ সয়ে উঠে- হাত বাড়িয়ে ছুয়ে দেই অদৃশ্য কোমল পরশ; লালাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভাবনায় ডুবে যেতে হয় প্রতিনিয়ত নিজেদের ভেতর।

এইভাবে যদিও বসে থাকার গল্পে আমরা নেই-  সূর্যাস্তের মুখোমুখি হওয়ার আশংকায় বিকেলটা পালিয়ে বেড়ায়; আমাদের আঙ্গুল গুলো ভ্রমণে গেলে ফিরে পেতে চাই। লোমকূপ হতে যে সকল ধ্বনি-প্রতিধ্বনি হয় তার রুপ আমাদের জানা নেই- আমরা কেবল ডুবে যাই- বসে রই।


আমাদের দীর্ঘ সাক্ষাতকার বিষয়ে

আমাদের দীর্ঘ সাক্ষাতকার পর্ব বলতে শীতকালটা ছিল
পৌষের আগে আগে যে রকম সন্ধ্যা নামে
ভেঁজা কুয়াশা ঠোঁটে মেখে ঘর ফেরত পাতি হাসের দল;
শুকনো ধুলো উড়তে উড়তে আমাদের জানালায় উল্টে যেত
ঘরের পর্দা আরো বেশি ভারি হয়ে উঠলে-
আকাশের রঙটা একটু একটু করে অন্ধকার হয়ে গেলে
আমাদের সাক্ষাত বলতে ঐ সময়টাই ছিল।

দরজার বাইরে ঘুমিয়ে পড়তো মেটো আলো
খরচার ভয় ছিল
তবু সঙ্গম মুখর হাওয়া আরো বেশি ব্যাকুল হয়ে উঠলে
দেয়ালে লেপ্টে থাকা হাস্নাহেনার গন্ধ শুকে শুকে ভ্রমণে যাওয়া যেত
আমাদের সাক্ষাত পর্ব বলতে ঐ সময়টুকুই ছিল।

গতবার যখন আলোটা নিভে গেল ভোরের আগে
দেয়াল ঘামতে ঘামতে নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেলো,
সূর্যটা এত আলসে ছিল যে জোনাকিরা গাইল নাদাইর গীত
আমরাও জড়তা ভেঙে শুনতে থাকলাম শিশির ঝরার শব্দ;
এইভাবে আমাদের সাক্ষাত শেষ হয়ে এল বলে
দারুণ শীতকালটা জমে গেলো।




    জুলাই, ২০১৭
    চিত্রঃ @flowsofly
   

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ